কুমিল্লাসোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশের ৬৮ ভাগ বাস ও ট্রাকের চালক কানে শোনেন না: উপদেষ্টা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ২১, ২০২৫ ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ শব্দ ও বায়ু দূষণে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, দেশের শতকরা ৬৮ ভাগ বাস ও ট্রাকের চালক কানে শোনেন না।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সনদ বিতরণ উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

পলিথিন বন্ধের দীর্ঘ লড়াই
রিজওয়ানা হাসান জানান, পলিথিন নিষিদ্ধকরণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। দীর্ঘদিন পর, ২০২৪ সালে পুনরায় এ কার্যক্রম শুরু হলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। তিনি বলেন, “অনেকে আমাদের উৎসাহ দিচ্ছেন, আবার অনেকে কাজটি কেন দ্রুত হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে নেতিবাচক মন্তব্য আমাদের পথচলায় কোনো বাধা নয়।”

বিকল্প খুঁজে পাওয়ার আহ্বান
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা হয়তো দেখোনি, কিন্তু আমরা দেখেছি—আমাদের বাবারা পাটের চটের ব্যাগ নিয়ে বাজারে যেতেন। এখন বলা হচ্ছে, পলিথিনের কোনো বিকল্প নেই। এটি সঠিক নয়। আমাদের ঐতিহ্যেই পলিথিনের বিকল্প বহুদিন ধরে রয়েছে। আমাদের সেই অভ্যাসে ফিরতে হবে।”

ব্যক্তিগত উদ্যোগের গুরুত্ব
পলিথিন ব্যবহার বন্ধে ব্যক্তিগত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজওয়ানা হাসান বলেন, “বাজারে গেলে পলিথিন ব্যাগ নেবেন না। বলবেন, আমি নিজের ব্যাগ নিয়ে এসেছি। এটি একটি সহজ অথচ কার্যকর সমাধান হতে পারে।”

সম্মাননা প্রদান ও বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল, সেন্ট জোসেফ হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল, বনানী বিদ্যা নিকেতন, এসওএস হারমান মেইনার, হলিক্রস এবং ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব (দূষণ নিয়ন্ত্রণ) তপন কুমার বিশ্বাস।

শেষ কথা
পলিথিন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিকল্প ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।