কুমিল্লাসোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্ভাগ্য অনেকেই এখন বলছে বিএনপি সংস্কার চায় না: ফখরুল

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ডিসেম্বর ২৭, ২০২৪ ৬:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকেই এখন বলছে, বিএনপি সংস্কার চায় না, নির্বাচন চায়। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলছি, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যেটুকু (সংস্কার) দরকার, তা শেষ করে নির্বাচনে যেতে চাই। আমরা কেন নির্বাচনের কথা বলছি? ড. আলী রীয়াজ বলছেন, সবাই বলছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য নির্বাচন হচ্ছে প্রধান ফটক, প্রধান দরজা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর মধ্যে একটির তুলনায় অন্যটি ভালো হয়েছে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে মানুষ গ্রহণ করেছে, এবং এটি অত্যন্ত জরুরি মনে করেছে। যদি আমরা তখন রাষ্ট্রপতি শাসনে চলে যেতাম, মানুষ সেটি গ্রহণ করত না।

জনগণকে বাদ দিয়ে কিছুই সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আজকের যে প্রক্রিয়া চলছে, সেটিকে আমি স্বাগত জানাই। কমিশনগুলোকে অনুরোধ করব, আপনারা জনগণের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশনের ব্যবস্থা রাখবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, কাঠামো না থাকলে শুধু চাপিয়ে দিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করতে হবে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আমরা গণতান্ত্রিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে গণতন্ত্রকে সফল করতে পারব। মাইন্ডসেট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই মাইন্ডসেট তৈরি করতে হবে। আমাদের গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে। ভুল হবে, ত্রুটি হবে, কিন্তু এসবের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হবে।

বিএনপি ২০১৬ সালে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছে, যেখানে রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা, প্রধানমন্ত্রী যেন দুইবারের বেশি না হতে পারেন, এবং দ্ব chambers বিশিষ্ট পার্লামেন্টের কথা বলেছিলাম আমরা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পরে ২০২২ সালে প্রথমে ১২ দফা এবং পরে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ৩১ দফা দিয়েছি। দীর্ঘ দুই বছর আলোচনা করেছি, অনেকের সঙ্গে কথা বলে ৩১ দফা প্রস্তাব করেছি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে সবাই যেন মনে রাখেন সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যেন ’৭১ ভুলে না যাই। এরপর ধারাবাহিক গণতন্ত্রের যে লড়াই, সেটি আমাদের প্রত্যেকেরই মনে রাখার প্রয়োজন। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে। একইসঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে, জনগণকে বাদ দিয়ে চাপিয়ে দিয়ে কিছুই সম্ভব নয়।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রমুখ।