কিশোরগঞ্জ ও মেহেরপুরে নির্বাচন–পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।
আজ বেলা ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে (নিকলী এবং বাজিতপুর উপজেলা) বিজয়ী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ও পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বাজিতপুর উপজেলার হুমায়ুনপুর ইউনিয়নের হুমায়ুনপুর গ্রামের এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শেখ মজিবুর রহমানের অনুসারী হিসেবে হুমায়ুনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ. রাশিদের পরিচিতি আছে। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাইয়ুম খান সৈয়দ এহসানুল হুদার সমর্থক। আজ সকালে এই দুই নেতার অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে শেখ মজিবুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান। তিনি আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর হাঁস প্রতীকের কাছে ১৩ হাজার ১৫৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা।
বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহত চারজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মেহেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর তিন কর্মী আহত
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধের জেরে জামায়াতে ইসলামীর তিন কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ সকালে উপজেলার জোড়পুকুরিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন জোড়পুকুরিয়া গ্রামের দুই ভাই উজ্জ্বল হোসেন (৩০) ও মাসুদ রানা (৪৫) এবং জুয়েল রানা (২৮)। উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য দুজন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
জামায়াতের এক আহত কর্মীছবি: প্রথম আলো
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে ওই তিনজন জোড়পুকুরিয়া বাজারের একটি দোকানে চা পান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি কর্মী মহিবুল, তাঁর ছেলে রিপন, বেলু, সাহেবসহ কয়েকজন দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজমুল হুদার পক্ষে কাজ করায় পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
গাংনী উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া সেলের প্রধান মাহাবুব বলেন, সরকার গঠন নিয়ে নিশ্চিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে তাঁদের নেতা-কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন বিএনপির কর্মীরা।
এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে প্রায় ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়লাভ করেছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী নাজমুল হুদা। এই জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করেই এলাকায় উভয় দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।












