কুমিল্লাশনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তেহরানে ইসরায়েলের হামলার দাবি, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান; ট্রাম্পের নতুন হুমকি

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ৭, ২০২৬ ৯:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে Israel। শনিবার (৭ মার্চ) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে Mehrabad International Airport এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, ওই হামলায় ইরানের এলিট বাহিনী Quds Force-এর অন্তত ১৬টি বিমান ধ্বংস হয়েছে। তাদের মতে, বিমানবন্দরটি Hezbollah-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে Al Jazeera। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি Iran।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

সংঘাতের মধ্যে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন Donald Trump। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও ‘কঠোর আঘাত’ হানা হতে পারে।

এর আগে শুক্রবার তিনি মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইলে ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করতে হবে। অন্যথায় কোনো ধরনের চুক্তি সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর জবাবে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আগ্রাসনের মুখে তেহরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওই দেশগুলো থেকে আক্রমণ না হলে সেখানে আর পাল্টা হামলা চালানো হবে না।

পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আবারও সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের আচরণের কারণে এমন কিছু এলাকা ও গোষ্ঠীকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেগুলো আগে হামলার তালিকায় ছিল না। ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন ট্রাম্প। সেখানে দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি মিত্র দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। পরে তিনি ডোভার এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে যাবেন, যেখানে চলমান সংঘাতে নিহত ছয়জন মার্কিন সেনার মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।