নাইদুল হোসেন ইমন
দীর্ঘ এক দশকেও অমীমাংসিত কুমিল্লার আলোচিত তনু হত্যা মামলায় আবারও নড়াচড়া শুরু হয়েছে। সোমবার আদালত মামলার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন, যা তদন্তে নতুন দিক খুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের ১০ বছর পর এ নির্দেশনা আসে। সোমবার কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম হাজির হলে আদালত এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচারক সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, তনুর ব্যবহৃত কিছু কাপড় থেকে আগে তিনজন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছিল, তবে সেগুলোর সঙ্গে পরবর্তীতে আর মিলিয়ে দেখা হয়নি। আদালত এখন ওই তিনজনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট তিনজনই ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। পাশাপাশি মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানাতেও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে তনুর ভাই রুবেল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, অতীতেও বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও পরিবর্তন করা হয়েছিল। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নতুন নির্দেশনাটিও যেন লোক দেখানো না হয়। তবে পরিবারের প্রত্যাশা, প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক।
সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় পিবিআইয়ের তদন্ত দল মামলার বাদী ও তনুর বাবা, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সঙ্গে তার কর্মস্থলে গিয়ে কথা বলেন। বর্তমানে এই মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছাকাছি জঙ্গলের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরবর্তীতে সিআইডি দীর্ঘদিন তদন্ত করলেও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার নথি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত কয়েক বছরে একাধিক তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে এবং বর্তমানে পিবিআই সদর দপ্তর মামলাটি তদন্ত করছে।
মামলার বাদী ইয়ার হোসেন বলেন, মেয়ে হত্যার এক দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বিচার পাননি। তিনি বলেন, অসংখ্যবার বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জীবদ্দশায় যেন মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন।












