কুমিল্লামঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ট্রেনে যাচ্ছে মাদক, প্রতিবাদ করায় কুমিল্লায় শিক্ষার্থীর মোবাইল ভেঙ্গে ফেলল অ্যাটেনডেন্স

প্রতিবেদক
Cumilla Press
নভেম্বর ২৪, ২০২৪ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা শশীদল স্টেশন থেকে কাটুন এবং বস্তা করে মাদক ট্রেনে উঠানোর অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের অ্যাটেনডেন্স রাসেল আকন্দের সাথে প্রতিবাদ করে। এই ঘটনায় চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুমিল্লা স্টেশনে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন বের করে অভিযুক্ত ট্রেনের অ্যাটেনডেন্স রাসেল আকন্দের ভিডিও করতে গেলে ওই অ্যাটেনডেন্স ক্ষোভে শিক্ষার্থীদের বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সাথে তার হাতাহাতি শুরু হয়৷ এই সময় অ্যাটেনডেন্স রাসেল আকন্দ প্রিন্স নামে এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা মারলে ওই শিক্ষার্থীর হাতে থাকা আইফোন সিক্সটিন প্রো ম্যাক্স মাটিতে পড়ে ভেঙ্গে যায়।

শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা রেলস্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় মূহুর্তের মধ্যে কুমিল্লা রেলস্টেশনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় ঘন্টা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে কুমিল্লা জিআরপি পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো: মেহরাব হোসেন প্রিন্স বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গতকাল ঘুড়তে গিয়েছিলাম। আজ বিকেলে চট্টলা এক্সপ্রেসে উঠি। ট্রেনটি শশীদল স্টেশনে পৌছালে ট্রেনের কর্মচারী ও ট্রেনের অ্যাটেনডেন্স রাসেল আকন্দ যোগসাজশে প্রায় ৮/১০ টি বস্তা ও কাটুন টাকার বিনিময়ে ট্রেনে উঠায়। বস্তায় কি আছে জানতে চাইলে আমাদের সাথে রাসেল আকন্দ খারাপ ব্যবহার করে। পরে অন্যান্য যাত্রীদের মাধ্যমে জানতে পারি প্রতিনিয়ত শশীদল থেকে মাদক ট্রেনে উঠানো হয়। এবং কুমিল্লা স্টেশনে পৌছানোর ২শত গজ আগে ট্রেনের গতি কমিয়ে বস্তা ও কাটুন গুলো ফেলে দেয়া হয়। এই সব অবৈধ মালামাল উঠানোর কারণে ট্রেনের যাত্রীদের চলাচলে ও উঠানামায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। যাত্রীদের ভোগান্তি ও এই অপরাধমূলক কাজ কেন করে এই সম্পর্কে জিগাসা করতে গেলে ওই অ্যাটেনডেন্স ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে আমাদের সাথে হাতাহাতি শুরু করে। এই সময় ওই অ্যাটেনডেন্স রাসেল আকন্দ আমায় ধাক্কা দিলে আমার হাতে থাকা আইফোন মাটিতে পড়ে ভেঙে যায়।

আব্দুল্লাহ আল হাজী সরকার রাফি নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কসবা একটা সীমান্তবর্তী এলাকা। সেখান থেকে অবৈধ মালামাল ও মাদক মন্দবাগ, কল্যাণ সাগর নামক স্থান থেকে এই অবৈধ মালামাল ট্রেনে উঠানো হয়। বিনিময়ে ট্রেনের স্টাফ ও কর্মচারীরা মোটা অংকের টাকা নিয়ে থাকে। এই সব মালামাল এসি ক্যাবিনের সামনে, দরজার সামনে রাখা হয়। যার কারণে ট্রেনের ভিতরে চলাচল ও ট্রেনে উঠানামা করতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই বিষয়ে অবশ্যই সরকারকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

নাজমুল হাসান নামে অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিনিয়ত ভারতীয় মালামাল ও মাদক ট্রেনে করে কুমিল্লায় আসে। তারপর সেই মাদক নিয়ে মাদক কারবারি কুমিল্লার বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে। যদি বৈধ মালামাল হতো তাহলে তারা স্টেশনে নিয়ে এসে নামাতো, কিন্তু তারা এই সব মালামাল স্টেশন থেকে দুইশত গজ দূরে ফোনে কথা বলে ট্রেনের গতি কমিয়ে বাহিরে ফেলে দেয়। আমি নিজে সাক্ষী, আমার বাসা কুমিল্লা নগরীর হাই স্কুলের সামনে। স্টেশন থেকে মাদক নিয়ে যাওয়ার পথে বিজিবি মাদক আটক করেছে। এই মাদকের জন্য যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে ট্রেনে চলাচল করতে পারে না। এর সাথে ট্রেনের সব কর্মকর্তারা জড়িত। তদন্ত করে মাদকের সাথে জড়িতদের বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

অভিযুক্ত ট্রেনের অ্যাটেনডেন্স রাসেল আকন্দ বলেন শশীদল থেকে বস্তাগুলো ট্রেনে উঠাতে তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করে কিসের বস্তা এইগুলো? আমি বলছি আমি জানি না কিসের। আমি বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো। এই বিষয় কর্তৃপক্ষ জানে। তখন তারা আমার সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লা স্টেশনে আসার পর তারা আমার ভিডিও করতে আসলে আমি না করি। একপর্যায়ে হাতাহাতির সময় মোবাইল পড়ে ভেঙ্গে যায়।

এই বিষয়ে কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ পুলিশ পরিদর্শক মো: মোস্তাফা কামাল জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। এবং ওই শিক্ষার্থীকে ৫ দিনের মধ্যে নতুন মোবাইল দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়।