শনিবার সম্ভাব্য আলোচনা; প্রস্তাবনায় বিস্তর ফারাক, লেবানন ইস্যুতে নতুন জটিলতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল আলোচিত বৈঠকটি শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বৈঠকের এজেন্ডা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে, পাশাপাশি সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের তালিকাও প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। তবে শেষ মুহূর্তে এই তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
অন্যদিকে তেহরানের ১০ দফা প্রস্তাবে প্রণালীর ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, জাহাজ চলাচলে টোল আরোপ, আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রম বন্ধ এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। ফলে উভয় পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য আলোচনাকে কঠিন করে তুলছে।
এদিকে, লেবানন ইস্যু আলোচনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতির পরও দেশটিতে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান মনে করছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও থাকা উচিত, তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছে ইসরাইল।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, লেবানন প্রসঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে, তবে আলোচনায় এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে—লেবাননে হামলা চলতে থাকলে আলোচনার অর্থই হারিয়ে যাবে। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক মিত্রদের পাশে থাকবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বৈঠকটি কেবল দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।












