কুমিল্লামঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাকরি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বিদেশ যাত্রায় বাধ্যতামূলক ডোপ টেস্ট

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ ২:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। একই সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। পরীক্ষায় পজিটিভ ফল এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।

দীর্ঘদিন নির্দেশনা থাকলেও নির্দিষ্ট বিধিমালা না থাকায় কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে ‘ডোপ টেস্ট বিধিমালা-২০২৬’ জারি হওয়ায় এ কার্যক্রম আইনি ভিত্তি পেল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জানিয়েছে, নতুন বিধিমালার ফলে মাদক সেবনের প্রবণতা কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি, স্থানীয় সরকার, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের আগে ডোপ টেস্ট প্রযোজ্য হবে। কর্মরত কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ বা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থাকলেও পরীক্ষা করা যাবে। একই বিধান প্রযোজ্য হবে বিভিন্ন শ্রেণির ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিদেশগামী কর্মী এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও।

ডিএনসির কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিফ কনসালটেন্ট ডা. কাজী লুতফুল কবীর বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই ডোপ টেস্ট চালু করেছিল, তবে এখন এটি বাধ্যতামূলক হওয়ায় সমাজে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।

বিধিমালার আওতায় পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হবেন এবং তাকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বাস্তবায়ন তদারকিতে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, নখ, চুল, রক্ত ও লালার নমুনা ব্যবহার করে ডোপ টেস্ট করার সক্ষমতা বর্তমানে রয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হলে সেটিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বর্তমানে ঢাকার তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সরকারিভাবে এই পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সক্ষমতা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিয়োগ ও লাইসেন্স প্রক্রিয়ার সঙ্গে ডোপ টেস্ট যুক্ত হওয়ায় মাদক গ্রহণের প্রবণতা নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।