কুমিল্লামঙ্গলবার, ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

 চাঁদ দেখেই রোজা-ঈদ নির্ধারণের আহ্বান, কনজানশন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ৩, ২০২৬ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রোজা ও ঈদ নির্ধারণে ‘মুন কনজানশন’ বা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব গ্রহণের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আলেম মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুছ। তাঁর মতে, ইসলামে রোজা ও ঈদ পালনের মূলনীতি হলো চাঁদ দেখা; কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের ওপর নির্ভর করে মাস শুরু করা শরীয়তসম্মত নয়।

তিনি বলেন, চন্দ্র মাস গণনা ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই প্রচলিত। মুসলমানরা প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে চাঁদ দেখেই রমজান ও ঈদ পালন করে আসছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারা (আয়াত ১৮৫)-তে রোজা সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং সহিহ হাদিসে চাঁদ দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মুফতি জুবায়ের ব্যাখ্যা করেন, মুন কনজানশন বলতে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থানের সময়কে বোঝায়, যা খালি চোখে দেখা যায় না; এটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের বিষয়। তাঁর দাবি, শরীয়তের বিধান পরিবর্তন করে কেবল হিসাবনির্ভর পদ্ধতিতে রোজা-ঈদ নির্ধারণ করা হলে মূল নীতির ব্যত্যয় ঘটে।

তিনি উল্লেখ করেন, নবী করিম (সা.)-এর যুগেও জ্যোতির্বিদ্যার প্রাথমিক চর্চা ছিল। এরপরও হাদিসে স্পষ্টভাবে চাঁদ দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে মাস ৩০ দিন পূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে। তাই কেবল বৈজ্ঞানিক হিসাবের ওপর নির্ভরতার পক্ষে ঐতিহাসিক বা শরয়ি ভিত্তি নেই বলে মত দেন তিনি।

মুফতি জুবায়ের আরও বলেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব শতভাগ নির্ভুল নয়—এমন মত অনেক বিশেষজ্ঞও দিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখা নিয়ে মতপার্থক্যের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, হিসাবভিত্তিক সিদ্ধান্ত মুসলিম বিশ্বে বিভক্তি বাড়াতে পারে।

তাঁর দাবি, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অধিকাংশ আলেম চাঁদ দেখার নীতিকেই অনুসরণ করেছেন। ইতিহাসে খেলাফতে রাশেদাসহ মুসলিম সমাজ দীর্ঘ সময় এ পদ্ধতিতেই রোজা-ঈদ পালন করেছে।

বর্তমানে বিভিন্ন দেশে রোজা-ঈদ নির্ধারণে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নবীজির নির্দেশিত পদ্ধতিতেই ফিরে যাওয়া উচিত।

সবশেষে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই রোজা ও ঈদ নির্ধারণের আহ্বান জানান মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুছ।