কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাঁদপুরে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে বাসার ছাদে নিয়ে হত্যা, মা ও মেয়ে গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ১৮, ২০২৫ ৮:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় জড়িত মাহমুদা আক্তার সোনিয়া ও তার মা খাদিজা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা উভয়েই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিকেলে চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতে মা ও মেয়েকে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. অলিউল্লাহ আরো নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারিক হাকিম আব্দুল মান্নান দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে প্রবাসী আবুল হোসেন মানিকের বাসার ছাদ থেকে আলমগীর হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে খাদিজা বেগম দাবি করেন, কে বা কারা তার বাসার ছাদে একজনকে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ তার বাসার একটি কক্ষ থেকে রক্তমাখা কাপড়চোপড় উদ্ধার করলে ঘটনার আসল রূপ বেরিয়ে আসে। এ সময় পুলিশ খাদিজা বেগম (৫০) ও তার মেয়ে মাহমুদা আক্তার সোনিয়াকে (৩০) আটক করে।

থানায় নিয়ে আসার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোনিয়া পুলিশকে জানান, তার সঙ্গে আলমগীরের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ বিষয়টি খাদিজা মেনে নিতে পারেননি। তাই সোমবার রাতে আলমগীরকে ফোনে ডেকে এনে বাসার ছাদে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তবে নিহত আলমগীর হোসেনের ভাই রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, টাকা-পয়সার লেনদেনের জেরে তার ভাইকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। একই কথা বলেন আলমগীরের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। তিনি বলেন, স্বামীর আয়ে সংসার চলত। এখন তিন সন্তান নিয়ে তিনি কী করবেন, তা জানেন না।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, পরকীয়া ও আর্থিক লেনদেন—এই দুটি বিষয় নিয়ে মামলার তদন্ত চলছে। তিনি আরো জানান, সোনিয়ার বাবা প্রবাসে থাকেন। গত দুই মাস আগে সোনিয়ার স্বামী দেশে ফিরে আবার চলে গেছেন। সোনিয়া একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলে তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য সোনিয়ার মোবাইলের কললিস্ট ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে।

ওসি আরো জানান, আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেন শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি ছোট যানবাহনের চালক ছিলেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাইকিং করতেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছেন।