কুমিল্লাবুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রেফতারের ৬ দিনের মাথায় জামিনে কুমিল্লার মানবপাচারকারী ওই মেম্বার সুমন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
অক্টোবর ৯, ২০২৪ ১০:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!


স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দীন বাহার ও তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাসহ কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবৈধ পথে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর কাজে সহযোগিতার অভিযোগে চোরাকারবারি ও মানবপাচারকারী মেম্বার সুমনকে গত ২রা অক্টোবর কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এস আই আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে আটক করে। পরে আইনী প্রক্রিয়ার জন্য তাকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। তার ঠিক ৬ দিন পর ৮ই অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে জামিনে বের হয় বহুল আলোচিত মানবপাচারকারী সুমন মেম্বার।

সুমন মেম্বারের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার মো: আব্দুল্ল্যাহেল আল-আমিন।

এর আগে ৫ই আগষ্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যথনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তারপর থেকে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠন এবং জেলা আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দেয়। তার কিছুদিন পর কুমিল্লা ৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আকম বাহাউদ্দীন বাহার ও তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনার ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় দুইটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। তারপর কুমিল্লার একটি স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক কুমিল্লার কাগজ বাহার সূচনার ভারতে অবৈধভাবে ভারতে পলায়নের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সেই প্রতিবেদনে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বের হয়ে আসে বাহার সূচনাকে ভারতে পলায়নে সহযোগিতাকারী মেম্বার সুমনের নাম। এই নিয়ে কুমিল্লার স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাগুলোতে একের পর এক সুমনের মানবপাচারের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই সব প্রতিবেদনে বের হয়ে আসে মেম্বার সুমনের নামে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো: সুমন মিয়া কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দক্ষিণ তেথাভূমি এলাকার আলী আশরাফ মিয়ার ছেলে। সুমন কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ প্রবাসে পাড়ি জমায়। চেয়ারম্যান রিয়াদের অনুপস্থিতিতে ইউপি সদস্য সুমন ক্ষমতার প্রভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় তার গ্রাম হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকের সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন এই সুমন। পরবর্তীতে হুন্ডি ব্যবসা সহ মানবপাচারের মত বড় ধরনের অপরাধে লিপ্ত হয়। অল্প দিনের মধ্যে সম্পদ ও ক্ষমতাবানদের তালিকায় তার নাম চলে আসে।

জাতীয় পত্রিকায় ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ও কুমিল্লা স্থানীয় পত্রিকা গুলোতে সুমনের মানব পাচারের বিষয়টি উঠে আসলে তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযানে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল এসআই আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে মেম্বার সুমনকে গ্রেফতার করে এনি প্রক্রিয়ার জন্য কোতোয়ালি থানায় প্রেরণ করে।

এই বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ভারতে পলায়নে মেম্বার সুমন সাহায্য করেছে এমন সংবাদ স্থানীয়সহ বেশ কিছু জাতীয় মিডিয়াতে প্রচার হয়েছে তা আমরা দেখেছি। তাকে আটকের ৬ দিন পর সে জামিনে বের হয়ে গেছে। এইটা সত্যিই দুঃখজনক। এতো সহজে যদি বড় অপরাধীরা পাড় পেয়ে যায়, তাহলে অন্য অপরাধীরা আরো উৎসাহিত হবে। আরো অপরাধ সংঘটিত হবে।

কুমিল্লা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, সুমন মেম্বারের জামিনের বিষয়টি শুনে আমি অনেক অবাক হলাম। মানব পাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হলো, আবার ৬ দিনের মাথায় জামিনও পেয়ে গেলো! মানব পাচারের সাথে সে জড়িত এমন সংবাদ আমরা অনেক পত্রিকায় দেখেছি। এতো বড় অপরাধীকে যদি বিচারের আওতায় নিয়ে আসা না হয় তাহলে সমাজে অপরাধ আরো বেড়ে যাবে৷