ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি আসন থেকে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ জামানত হারিয়েছেন ১৯ প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসন থেকে মোট ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৯ জন প্রার্থী নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী জামানত হারিয়েছেন।
Pause
Mute
Remaining Time -19:39
Unibots.com
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে, জামানত রক্ষা করার জন্য প্রার্থীকে মোট ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হয়, কিন্তু ১৯ জন প্রার্থী তা অর্জন করতে পারেননি। ফলে তারা তাদের জামানত হারিয়েছেন। জামানত হারানো বিএনপির দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন- গোপালগঞ্জ-০২ আসন থেকে এম সিরাজুল ইসলাম ও গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে মো. হাবিবুর রহমান।
গোপালগঞ্জ-০১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী একাংশ) আসনে মোট ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৪৭টি। যার মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৯টি এবং বাতিল ভোটের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪৬৮টি। যা মোট ভোটের ৪৯.৬৭%।
এখানে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী নিরদ বরণ মজুমদার, যিনি পেয়েছেন মাত্র ৩৪৯ ভোট। জাতীয় পার্টির সুলতান জামান খান পেয়েছেন ৬২১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাইউম আলী খান পেয়েছেন ২,১৮০ ভোট, এম আনিসুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫৭ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ৫ হাজার ৮৭০ ভোট পেয়েছেন।
গোপালগঞ্জ-০২ (গোপালগঞ্জ সদর-কাশিয়ানী একাংশ) আসনে মোট ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫টি। যার মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬২১টি এবং বাতিল ভোটের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৬৪টি। যা মোট ভোটের ৩৯.৮৩%।
এ আসনে সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন গণফোরামের শাহ মফিজ, তিনি পেয়েছেন মাত্র ২১৫ ভোট। তার পরেই আছেন গণঅধিকার পরিষদের দীন মোহাম্মদ, তিনি ৩০৫ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী রনি মোল্লা পেয়েছেন ৪০৩ ভোট, জাতীয় পার্টির রিয়াজ সারোয়ার মোল্লা ৪১৯ ভোট, জাকের পার্টির মাহমুদ হাসান ১ হাজার ৩৭১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিপন ভূঁইয়া ১ হাজার ৯৩১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তসলিম সিকদার ২ হাজার ৯১১ ভোট এবং বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) এম. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ২ হাজার ৮১৯ ভোট পেয়েছেন।
গোপালগঞ্জ-০৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে মোট ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। যার মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৬৫টি এবং বাতিল ভোটের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২০টি। যা মোট ভোটের ৪৪.২০%
এখানে গণফোরামের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস ২৬৯ ভোট পেয়ে সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন। এরপর এনপিপি’র শেখ সালাহউদ্দিন ৫৯১ ভোট পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের আবুল বসার পেয়েছেন ২ হাজার ৬০০ ভোট, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ৮০৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মারুফ শেখ ৪ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
এদিকে, তিনটি আসন থেকেই বিএনপির তিন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এছাড়া, ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের তিন প্রার্থী, গণঅধিকার পরিষদের একজন প্রার্থী, বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থী, আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত এক প্রার্থী ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। গোপালগঞ্জে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী জামানত হারানোর ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা জন্ম দেয়ার পাশাপাশি জামানত হারানোর দলগুলো সক্ষমতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছে।












