গণভোটের মাধ্যমে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার দাবি সত্য নয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এ দুটি জেলাকে বিভাগ করা হবে কি না তা গণভোটের অংশ নয় বলেও জানানো হয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস নামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ তার একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “আপনি কি জানেন এই গণভোটে আপনি কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার জন্যও ভোট দিচ্ছেন?” এই দাবি সত্য নয়। এ দুটি জেলাকে বিভাগ করা হবে কি না তা গণভোটের অংশ নয়।
গণভোটের ব্যালোটে ৪টি বিষয় থাকা ও জুলাই জাতীয় সনদে ৮৪টি সংস্কার থাকাকে আসিফ সালেহ ‘চালাকি’ বলেছেন। কিন্তু জুলাই সনদে উল্লিখিত সকল সংস্কার নিয়ে নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হচ্ছে। এই প্রস্তাবগুলোকেই সংক্ষেপে গণভোটের ব্যালোটে উপস্থাপন করা হবে জানিয়েছে প্রেস উইং।
জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে উল্লেখ করে প্রেস উইং জানায়, এ প্রস্তাবগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোকে “ক” অংশে রাখা হয়েছে, বাকিগুলোকে “খ” অংশে। ক. সংবিধান সংস্কারের সাপেক্ষে সংস্কারের বিষয়সমূহ। এতে ৪৭টি প্রস্তাব রয়েছে। খ. আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়সমূহ। এতে প্রস্তাব রয়েছে ৩৭টি। গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৭টি প্রস্তাবের ওপর।
আসিফ সালেহ ‘কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার’ যে উদাহরণ দিয়েছেন, তা জুলাই সনদের ৬৮ নম্বর প্রস্তাবে আছে। কিন্তু এটি সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের সাথে সম্পর্কিত। ফলে এটি গণভোটের অংশ নয় বলে জানায় প্রেস উইং।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আরও জানিয়েছে, জুলাই সনদে বিচার বিভাগ নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব আছে। যেগুলো সংবিধান সংস্কারের সাথে সম্পর্কিত, সেগুলোকে সনদের “ক” অংশে রাখা হয়েছে। যেমন, বিভাগ বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ। আবার কিছু প্রস্তাব “খ” অংশে রাখা হয়েছে, যেমন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। এর মধ্যে কেবল “ক” অংশের প্রস্তাবগুলো গণভোটের অংশ, “খ” অংশের প্রস্তাবগুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়।












