স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের শাহপুর সীমান্তঘেঁষা এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পুকুরপাড় ঘেঁষে কয়েক দিন ধরে তারা এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী বিএসএফ এই বেড়া নির্মাণ করছে। তবে পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য বিজিবি সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুমিল্লার শাহপুর এলাকার সীমান্ত ঘেঁষা একটি পুকুরের এক-তৃতীয়াংশ ভারতের মালিকানায় এবং বাকি অংশ বাংলাদেশে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের বাসিন্দারা পুকুরটি ব্যবহার করে আসছিলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও ছিল।
তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে বিএসএফ ওই পুকুরপাড়ের সীমান্তে নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানান। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সীমান্তে টহল জোরদার করে বিজিবি।
শাহপুর গ্রামের বাসিন্দা এমরান হোসেন বলেন, “বিএসএফ শূন্যরেখায় বেড়া নির্মাণ করছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের হুমকি দেয়। এতে এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে বিজিবি এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।”
আরেক বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, “আমরা জানি, শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায় না। কিন্তু বিএসএফ সেই নিয়ম উপেক্ষা করছে। এমনকি তারা নকশার বাইরে গিয়ে কাজ করারও চেষ্টা করেছে। এ কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজিবি এসে বিষয়টি বুঝিয়ে বললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।”
কুমিল্লা-১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এএম জাহিদ পারভেজ জানান, “বিএসএফ পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের শাহপুর এলাকায় বেড়া নির্মাণ করছে। তবে তারা যাতে কোনো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন না করে, সেজন্য আমরা ইঞ্চি ইঞ্চি কাজ মনিটরিং করছি। এর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি লঙ্ঘনের চেষ্টা করলে আমরা বাধা দিয়ে কাজ বন্ধ করেছিলাম। এখন তারা নিয়ম মেনে কাজ করছে।”
বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে তারা। বিএসএফ যদি কোনোভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের হুমকি দেয়, তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির কর্মকর্তারা। তবে সীমান্তে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।












