কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর কুবি ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। শনিবার (৩১ মে) ডুজা সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি ও সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, “গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এ স্তম্ভের উপর বারবার আঘাত এনে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা গণতন্ত্রবিরোধী এবং স্বেচ্ছাচারী চেহারা প্রকাশ করছে। অপেশাদারিত্ব ও কাপুরুষতায় ভরা এ ধরনের হামলা চরম উদ্বেগজনক এবং তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
তারা আরও বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, সংগঠনটির ভেতরে পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমবিরোধী মনোভাব লালন করা হচ্ছে। শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ও তার অনুসারীদের নেতৃত্বে এই হামলা সংঘটিত হয়, যা পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার সময় সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলা, ধাক্কাধাক্কি করা এবং মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলা ছিল একধরনের বর্বরতা। ‘আগে সাংবাদিক মার’ ধরনের স্লোগান দেওয়া শুধু সাংবাদিকতা নয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও সরাসরি আঘাত। এটি গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা, যা একটি ফ্যাসিবাদী চেতনার পরিচায়ক।”
এছাড়াও নেতৃবৃন্দ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিতুমীর কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও কুমিল্লায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এসব ঘটনায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে বোঝা যায়, সাংবাদিকদের টার্গেট করাই যেন সংগঠনটির কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রদল প্রমাণ করছে, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের অধিকারকে সম্মান করে না।
বিবৃতিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।












