ডেস্ক রিপোর্ট:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মেয়েদের আবাসিক হলের একটি কক্ষে চাদরে মুড়িয়ে এবং কপালে টিপ পরে প্রবেশের অভিযোগে বহিরাগত যুবক আশরাফুল ইসলাম পারভেজকে আটক করা হয়েছে। শনিবার রাত ১টার দিকে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাকে আটক করে আশুলিয়া থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
জানা গেছে, আশরাফুলের বাড়ি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে হলেও তিনি বর্তমানে গাজীপুরে বসবাস করেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম ব্যাচের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের এক শিক্ষার্থীর কক্ষ থেকে আটক করা হয়। আশরাফুল দাবি করেছেন, তিনি জাবিতে চলমান হিম উৎসব দেখতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রীরা জানান, অভিযুক্ত নারী শিক্ষার্থীর সহায়তায় আশরাফুল হলে প্রবেশ করেন। গেটের প্রহরীদের চোখ এড়াতে তিনি মুখ ও শরীর চাদরে মুড়িয়ে এবং কপালে টিপ পরে ভেতরে ঢোকেন। পরে কক্ষে ঢোকার পর চাদর খুলে ফেললে আশপাশের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি টের পান এবং তাকে শনাক্ত করেন।
ছাত্রীরা তাকে ধরে হল প্রভোস্টের কাছে নিয়ে গেলে প্রভোস্ট প্রক্টরিয়াল বডিকে খবর দেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে আশরাফুলকে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উত্তেজিত ছাত্রীরা তাকে জুতাপেটা করেন।
আটকের পর আশরাফুল জানান, তিনি ও ওই ছাত্রী দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং তারা দুজনেই লালন ভক্ত। তবে ওই ছাত্রী বলেন, ‘সে আমার ফেসবুক বন্ধু। কোনো আপত্তিকর অবস্থায় আমরা ছিলাম না। সে হিম উৎসবে এসে থাকার জায়গা না পেয়ে হলে এসেছে।’
অপরদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রীর স্বামী জানান, তিনি আশরাফুলকে চিনেন না।
এই ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। রাত পৌনে ২টার দিকে বটতলা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের সামনে শেষ হয়।
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’












