কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সীমান্ত দালাল ফিলিপ সাংমা গ্রেপ্তার ভারতে

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ১৪, ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামিকে অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

শনিবার (১৪ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুর এলাকার কাছ থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ফিলিপ সাংমাকে আটকের বিষয়টি কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসটিএফ তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফিলিপ সাংমা স্বীকার করেছেন যে, তিনি ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকতে সহায়তা করেছিলেন। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনিও একই সীমান্তপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।

গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে হাদি হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। ফয়সালের বয়স ৩৭ বছর এবং তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। অন্যদিকে ৩৪ বছর বয়সী আলমগীরের বাড়ি ঢাকায়। পরে তাদের বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট সড়কে রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে ওসমান হাদিকে। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় দিন পর তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, হামলার পরপরই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তাদের পালাতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তদন্তে আরও জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পীর সহায়তায় সীমান্তের দালালচক্রের মাধ্যমে ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতে পার করে দেওয়া হয়। এই দালালচক্রের অন্যতম সদস্য ছিলেন ফিলিপ সাংমা। তার বাড়ি হালুয়াঘাট সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামে।

এর আগে অভিযানে ফিলিপের দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার করার পর টেলিভিশনের সংবাদ দেখে তারা বুঝতে পারেন যে ঢাকায় বড় ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। এরপর বিষয়টি ফিলিপকে জানালে তিনিও আত্মগোপনে চলে যান।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতে এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ও আলমগীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশে এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। তবে তাইজুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরও দুজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

গত ৭ জানুয়ারি এ হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে মামলার বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি

.