কিলিয়ান এমবাপ্পে যে ক্লাবে খেলেন, সেই ক্লাবেই যেন বারবার বদলে যায় কোচ। গত এক দশকে বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি তারকা খেলেছেন ৯ জন কোচের অধীনে। সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাবি আলোনসোর বিদায়ের পেছনেও আলোচনায় উঠে আসছে তার নাম।
নিজের সাবেক ক্লাবের ডাগআউটে আলোনসোর সময়টা ছিল মাত্র ৩৪ ম্যাচের। তবে পরিসংখ্যান বলছে, তার অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের পারফরম্যান্স মোটেও হতাশাজনক ছিল না- ২৪টি জয়, ৪টি ড্র ও ৬টি হার।
একই সংখ্যক ম্যাচে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে হ্যান্সি ফ্লিকের পারফরম্যান্সও ছিল প্রায় একই রকম। অথচ পরবর্তী সময়ে তিনি কাতালান ক্লাবটিকে ঘরোয়া ট্রেবলসহ চারটি শিরোপা এনে দেন। সে তুলনায় রিয়াল মাদ্রিদ কি তবে একটু বেশি তাড়াহুড়ো করেই আলোনসোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করল- এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
মাত্র সাত মাসের মাথায় আলোনসোর বিদায় নিয়ে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ। অল্প সময়ে তার বিদায়ের পেছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আলোচনায় আসছে কিলিয়ান এমবাপ্পের নামও।
কারণ, ফরাসি তারকা যে দলে খেলেন, সেই দলেই কোচের মেয়াদ তুলনামূলকভাবে কম হয়, এমন একটি প্রবণতা স্পষ্ট। পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপ্পের সময়কালে এই দুই ক্লাব মিলিয়ে মোট ছয়বার কোচ পরিবর্তন হয়েছে।
পেশাদার ফুটবলে এমবাপ্পের ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১৫ সালে মোনাকোতে। ২০১৭ সালে ধারে পিএসজিতে যোগ দিয়ে পরে স্থায়ী হন এবং সেখানে খেলেছেন টানা ১০ বছর। এই সময়ের মধ্যে তিনি ৯ জন কোচের অধীনে মাঠে নেমেছেন। গড়ে দেড় বছর পরপরই নতুন কোচ পেয়েছেন এমবাপ্পে, যার প্রভাব পড়েছে ক্লাবের সামগ্রিক পারফরম্যান্সেও।
প্যারিস সাঁ জার্মেইয়ে উনাই এমেরি, থমাস টুখেল, মরিসিও পচেত্তিনো ও ক্রিস্তফ গালতিয়ের এই চার কোচের অধীনেই খেলেছেন এমবাপ্পে। ফরাসি জায়ান্টদের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার এক থেকে আড়াই বছরের মধ্যেই সবাইকে বিদায় নিতে হয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপ্পের দেড় বছরের সময়ে বিদায় নিয়েছেন দুই কোচ। প্রথমে কার্লো আনচেলত্তি, এরপর সম্প্রতি জাবি আলোনসো।
আলোনসোর বিদায়ের পর রিয়াল ড্রেসিংরুমে তাকে ঘিরে অসন্তোষের খবরও সামনে এসেছে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ক্লাব বিশ্বকাপ চলাকালীন সময় থেকেই কয়েকজন ফুটবলারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল এই স্প্যানিশ ট্যাকটিশিয়ানের।
সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আরদা গুলের ও চুয়ামেনিরা কোচের ওপর আস্থা রাখলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ফেদেরিকো ভালভার্দে ও জুড বেলিংহামদের মধ্যে সেই আস্থা ধীরে ধীরে কমে যায়। ফুটবলারদের এই অনাস্থাই আলোনসোর ছাঁটাইয়ের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।












