প্রয়াত মার্কিন ব্যবসায় উদ্যোক্তা ও যৌন সম্পর্কিত অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত নথি এপস্টেইন ফাইলে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস। তিনি বলেছেন, নথিতে তার সাবেক স্বামী বিল গেটসের নাম উঠে আসা তার দাম্পত্য জীবনের ‘খুবই যন্ত্রণাদায়ক সময়গুলো’ আবার মনে করিয়ে দিয়েছে। বিবিসি।
গত নভেম্বরে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের জন্য বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ। চাপের মুখে ট্রাম্পও এসব নথি প্রকাশের আহ্বান জানান। এরপর ধাপে ধাপে এসব নথি প্রকাশ করা হচ্ছে। সবশেষ গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ।
এসব নথিতে উঠে এসেছে প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তির নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, টেসলার মালিক ইলন মাস্ক—এমনকি মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও। এদের অনেকের নাম আগে প্রকাশিত নথিতেও ছিল।
নতুন এসব নথিপত্র বিশ্বজুড়ে রীতিমতো হইচই ফেলেছে। চলছে তীব্র আলোচনা-বিতর্ক। এর মধ্যে এনপিআরের ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ পডকাস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটসের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন মেলিন্ডা গেটস।
তিনি বলেন, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে তিনি ‘অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখ’ অনুভব করছেন। তার মতে, যেসব ব্যক্তির নাম ওই নথিগুলোতে এসেছে, তাদের সবাইকে এ বিষয়ে জবাব দিতে হবে—এর মধ্যে তার সাবেক স্বামীও রয়েছেন।
মেলিন্ডা বলেন, ‘এই সব কাদামাখা বিষয় থেকে দূরে থাকতে পেরে আমি সত্যিই স্বস্তি পাচ্ছি।’ ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে ২০২১ সালে বিল ও মেলিন্ডার বিচ্ছেদ হয়।
সবশেষ প্রকাশিত নথির মধ্যে এপস্টেইনের পক্ষ থেকে করা কিছু অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে একটি অভিযোগে দাবি করা হয়, বিল গেটস নাকি এক সময় যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বিল গেটস এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিল গেটসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একজন প্রমাণিত মিথ্যাবাদী ও অসন্তুষ্ট ব্যক্তির করা এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।’ উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এপস্টেইনের কোনো ভুক্তভোগীই বিল গেটসের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধের অভিযোগ করেননি। নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা—এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই।
পডকাস্ট মেলিন্ডা বলেন, ‘এই ধরনের তথ্য সামনে এলে ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য বিষয়টা খুব কঠিন হয়ে যায়। কারণ এতে আমার দাম্পত্য জীবনের খুবই কষ্টের স্মৃতিগুলো ফিরে আসে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনও যেসব প্রশ্ন রয়ে গেছে, সেগুলোর উত্তর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই দিতে হবে—এমনকি আমার সাবেক স্বামীকেও। আমি সেগুলোর জবাবদিহি করব না।’
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য মতে, বিচ্ছেদের আগেই মেলিন্ডা তার স্বামীর এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে বিরক্ত ছিলেন। বিচ্ছেদের ঘোষণা আসার পর বিল গেটস স্বীকার করেন যে, ২০১৯ সালে মাইক্রোসফটের এক কর্মীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।
নতুন প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের দুটি ইমেইল রয়েছে, যা এপস্টেইনের লেখা বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সেগুলো আদৌ বিল গেটসকে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইমেইল দুটি এপস্টেইনের নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠিয়ে আবার একই অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছিল এবং তাতে বিল গেটসের কোনো ইমেইল ঠিকানা দেখা যায় না।
একটি ইমেইলে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগপত্রের মতো লেখা রয়েছে এবং সেখানে বিল গেটসের বিরুদ্ধে রাশিয়ান নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্য ইমেইলে আরও কিছু গুরুতর দাবি করা হয়, যার সত্যতা প্রমাণিত নয়।
দীর্ঘদিন ধরেই বিল গেটস ও তার প্রতিনিধিরা এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ককে খাটো করে দেখিয়ে আসছেন। বিল গেটস আগেও বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কয়েকটি নৈশভোজ ছাড়া তেমন কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং কোনো যৌথ দাতব্য প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।
সর্বশেষ অভিযোগের পর বিল গেটসের মুখপাত্র বলেন, ‘এই নথিগুলো শুধু এটুকুই দেখায় যে গেটসের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে না পেরে এপস্টেইন কতটা হতাশ ছিলেন এবং তাকে ফাঁসাতে ও বদনাম করতে কতদূর যেতে পারেন।’
প্রকাশিত নথিগুলো এপস্টেইনের বিশাল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে সেলিব্রিটি, ব্যবসায়ী ও বিশ্বনেতাদের নাম রয়েছে—যাদের অনেকেই ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌন সুবিধা নেয়ার অভিযোগে এপস্টেইনের দণ্ডের পরও তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।












