কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একদিনেই স্বর্ণ ও রুপার বড় দরপতন—পেছনে কী আছে?

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ ৪:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই দিক বদলেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। ব্যাপক দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে এই দুই মূল্যবান ধাতুর দামে পতন অব্যাহত থাকবে নাকি ঘুরে দাঁড়াবে বাজার, তা জানতে এখন মুখিয়ে বিনিয়োগকারীরা।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৮০ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে। কিন্তু শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) স্বর্ণের দাম একদিনেই প্রায় ৯ শতাংশ পড়ে যায়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ দরপতন। বিক্রির চাপ সেখানেই থামেনি। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চলে সেই পতনের ধারা। এদিন দাম আরও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৫ ডলারে নেমে আসে। পরে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় স্বর্ণের বাজার।

বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক ঘিরে টানাপোড়েন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানের ভূমিকা–এসবের ফলে মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তাতে স্বর্ণ ও রুপার দাম তরতরিয়ে বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই সুদের হার কমাতে পারে, এমন প্রত্যাশার ফলে ডলার দুর্বল হয়, চাহিদা বাড়ে স্বর্ণের। এ ছাড়া দাম বাড়ার আরেকটি বড় কারণ ছিল কল অপশন কেনার ঢেউ।

এদিকে গত সপ্তাহে রুপার দামও অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রতি আউন্স ১২১ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছে রেকর্ড গড়ার পরপরই দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পড়ে যায়। সোমবার পর্যন্ত মোট পতন দাঁড়ায় প্রায় ৪১ শতাংশে, দাম নেমে আসে প্রায় ৭২ ডলারে। এরপর ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার শুরু হয়।

জল্পনাভিত্তিক লেনদেন এবং শিল্পখাতে চাহিদা জোরালোভাবে বাড়বে, এমন প্রত্যাশা থেকে রুপার দাম বেড়েছিল। ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনে রুপার ব্যবহার বাড়ছে।

তবে আচমকা দুটি ঘোষণায় বাজারের ভোল পাল্টে গেছে। এই দুই মূল্যবান ধাতু কেনার বদলে বিক্রির ঢল বেড়েছে। প্রথমত গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কেভিন ওয়ার্শকে পরবর্তী ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেরোম পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হতে যাওয়া ওয়ার্শকে অর্থনৈতিক সংকটকালীন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, বাস্তববাদী ও স্বাধীন কণ্ঠ হিসেবে দেখা হয়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ও বড় আকারের সুদ কমানোর চাপ কমে যাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প আগেও বারবার পাওয়েলের কাছে এমন দাবি জানিয়ে এসেছেন। ওয়ার্শের মনোনয়নের খবরে ডলারও শক্তিশালী হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, সপ্তাহান্তে শিকাগো মারকেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (সিএমই) মার্জিন চাহিদা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়। সিএমই-তে কমেক্সের (কমোডিটি এক্সচেঞ্জ, ইনক.) মাধ্যমে স্বর্ণ ও রুপার ফিউচার চুক্তিতে ব্যাপক লেনদেন হয়। অতিরিক্ত ঝুঁকি নেয়া ঠেকানো এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

নাটকীয় দোলাচলের পর এখন বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন-স্বর্ণের দাম কি এখন দীর্ঘমেয়াদে নিম্নমুখী থাকবে, নাকি বাজারের ভোল আবার পাল্টে যাবে।

সিএমসি মার্কেটসের এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য প্রধান ক্রিস্টোফার ফোর্বস মনে করেন, স্বর্ণের এই তীব্র পতন দীর্ঘমেয়াদি হবে না। বরং অসাধারণ এক উত্থানের পর এমন দাম কমার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন তিনি।

ফোর্বস বলেন, ‘ডলার আবার দুর্বল হলে বা ওয়ার্শের নমনীয় অবস্থান নিশ্চিত হলে বিনিয়োগকারীরা ফিরে আসবে।’ তার ধারণা, আগামী ১২ মাসে স্বর্ণের দাম আবার সাম্প্রতিক উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে। মার্কিন ব্যাংক জেপি মরগানের মতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৩০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে।

সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জার্মানির ডয়চে ব্যাংক জানায়, বিনিয়োগকারীরা এখনো স্বর্ণ কিনতে মুখিয়ে আছে। তার এই আগ্রহ ‘সহজে প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই’।

এদিকে বিশ্লেষকের মতে, রুপার দামও ভবিষ্যতে বাড়বে। কারণ শিল্পখাতে চাহিদা বাড়ছেই, আর অনুসন্ধান ও খনিতে বহু বছর ধরে কম বিনিয়োগের ফলে সরবরাহ এখনো সীমিত।