কুমিল্লারবিবার, ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদযাত্রা সামনে রেখে বরিশালে বাস-লঞ্চ প্রস্তুতি, ব্যস্ত গ্যারেজ ও নদীবন্দর

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ৮, ২০২৬ ১:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আসন্ন Eid al-Fitr উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বরিশালে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। যদিও এখনো ঈদযাত্রার বড় চাপ শুরু হয়নি, তবু বাস টার্মিনাল ও নদীবন্দরের গ্যারেজগুলোতে চলছে যানবাহন মেরামত, রং ও ফিটনেস নিশ্চিত করার কাজ।

শনিবার (৭ মার্চ) নগরীর Nathullabad Bus Terminal এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাসগুলোতে শেষ মুহূর্তের মেরামত ও রংয়ের কাজ চলছে। গ্যারেজগুলোতে যন্ত্রপাতির শব্দ আর রঙের তীব্র গন্ধে ব্যস্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় একটি গ্যারেজের মিস্ত্রি শাহীন ইসলাম জানান, ঈদের আগে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। আগে যেখানে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করতেন, এখন সেখানে অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে বাসগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে।

আরেক পেইন্টিং মিস্ত্রি জিয়া বলেন, ঈদের আগে বাস মালিকরা সাধারণত যানবাহনের ছোটখাটো ত্রুটি মেরামত করান এবং বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়াতে রংয়ের কাজেও গুরুত্ব দেন।

এ বিষয়ে Barishal District Bus Owners Group–এর সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বলেন, ঈদযাত্রা স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাসগুলোকে আগে থেকেই প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে বরিশাল-ঢাকা রুটে প্রায় দেড় হাজার বাস চলাচল করে। যাত্রীদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটিও মেরামত করা হচ্ছে।

শুধু সড়কপথেই নয়, নৌপথেও চলছে প্রস্তুতি। Barishal River Port এলাকায় পন্টুন মেরামত ও রংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা ও যাত্রী নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

নদীবন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের অনেক মানুষ নৌপথে যাতায়াত করেন। তাই ঢাকা-বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটের লঞ্চগুলোর ফিটনেস তদারকি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পন্টুন এলাকায় ড্রেজিং করে জায়গা বাড়ানোর কাজও চলছে।

এদিকে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে নেমেছে Barishal Metropolitan Police। সংস্থাটির কমিশনার Md. Shafiqul Islam জানান, সড়কে চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন যাতে সড়কে চলাচল করতে না পারে সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

প্রশাসনের ধারণা, ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে ঘিরে সড়ক ও নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ বাড়ি ফিরবেন। তাই আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

.