কুমিল্লারবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৮:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ জন্মের পর থেকে মায়ের মুখের ভাষা শুনে যে ভাষা বলতে শিখে তাই মাতৃভাষা। মা ও মাতৃভাষার সম্পর্ক নিবিড়। একমাত্র মাতৃভাষায়ই মানুষ প্রশান্তির সঙ্গে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। মহান আল্লাহ সকল নবী ও রসুল মাতৃভাষায় প্রেরণ করেছেন। মাতৃভাষা চর্চা বা বিশুদ্ধভাবে কথা বলা হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুমহান আদর্শ।

সব ভাষা মহান আল্লাহর সৃষ্টি। মহান আল্লাহ হজরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করে তাকে সব ভাষা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনিই তাকে শিক্ষা দিয়েছেন ভাব প্রকাশের উপযোগী ভাষা।’ (সুরা আর রাহমান, আয়াত : ২-৩)

ভাষার বৈচিত্র্য মহান আল্লাহর নিদর্শন। পবিত্র কোরআনে তিনি বলেন, আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও তোমাদের বর্ণের ভিন্নতা। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য ।  (সুরা রুম, আয়াত : ২২)

প্রত্যেক নবী স্বজাতির ভাষায় প্রেরিত হয়েছেন

মহান আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁদের ওপর যেসব আসমানি কিতাব নাজিল হয়েছিল সেগুলোর ভাষা ছিল ওই নবী-রাসুলদের স্বজাতির ভাষা। মাতৃভাষার সঙ্গে প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর সভ্যতা ও সংস্কৃতি জড়িত। মহান  আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য…।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ০৪)

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ প্রত্যেক নবীকে তাঁর স্বজাতির ভাষায় প্রেরণ করেছেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)


আমরা দেখি, হজরত ঈসা (আ.)-এর জাতির মাতৃভাষা ছিল সুরিয়ানি, তাই সুরিয়ানি ভাষায় তাঁর প্রতি ইনজিল অবতীর্ণ হয়। হজরত মুসা (আ.)-এর জাতির ভাষা ছিল ইবরানি, তাই ইবরানি ভাষায় তাওরাত অবতীর্ণ হয়। হজরত দাউদ (আ.)-এর জাতির ভাষা ছিল ইউনানি, তাই ইউনানি বা আরামাইক ভাষায় জাবুর অবতীর্ণ হয়। আর সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর আগমনাঞ্চলের ভাষা ছিল আরবি, তাঁর প্রথম ও প্রত্যক্ষ শ্রোতা ছিলেন আরবরা, তাই সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ পবিত্র কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়। আসমানি কিতাবসমূহ যদি নবী-রাসুলদের নিজ নিজ মাতৃভাষায় না হয়ে ভিন্ন ভাষায় নাজিল হতো, তাহলে নিজেদের উম্মতদেরকে দীনের আলোর দিকে আহবান করা নবী-রাসুলদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যেত।

সব ভাষা মহান আল্লাহর সৃষ্টি

মহান আল্লাহ হজরত আদম (আ.)কে সৃষ্টি করে তাকে সব ভাষা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ, তিনিই তাকে শিক্ষা দিয়েছেন ভাব প্রকাশের উপযোগী ভাষা।’ (সুরা আর রাহমান, আয়াত : ২-৩)

হজরত মুসা (আ.) ফেরাউনের কাছে আল্লাহ তায়ালার আদেশ-নিষেধ পৌঁছে দেওয়ার পূর্বে আবেদন করেছিলেন, ‘হে আমার প্রভু! আমার জিহবা থেকে জড়তার সমাধান করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ২৭-২৮)

নবীজি (সা.) আরবের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষী ছিলেন

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমাকে দান করা হয়েছে সর্বমর্মী বচন।’ হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি আরবের শ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধভাষী; কুরাইশ গোত্রে আমার জন্ম।’

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা, বিশুদ্ধ চর্চা এবং দ্বীনি জ্ঞান মাতৃভাষায় প্রচার করা আমাদের দায়িত্ব। পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মাতৃভাষা সাংস্কৃতিক পরিচয় ও দাওয়াতের কার্যকর মাধ্যম। যে দীনি জ্ঞান মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে হলে তার ভাষায় পৌঁছাতে হবে।