কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসরায়েলের দাবি, গাজা থেকে উদ্ধার শেষ জিম্মির মরদেহ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ৫:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকা থেকে শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের পথ খুলে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া জিম্মি মাস্টার সার্জেন্ট রান গিভিলির সন্ধানে গত অক্টোবর থেকে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই অভিযান চালাচ্ছিল ইসরায়েলি বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গিভিলির মরদেহ ফেরত আসাকে ‘একটি অসাধারণ অর্জন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রোববার সকালে গাজা শহরের কাছের একটি কবরস্থানে অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনারা। হামাসের সামরিক শাখা জানায়, গিভিলির অবস্থান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব তথ্য তারা মধ্যস্থতাকারীদের সরবরাহ করেছিল। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানায়, কবরস্থানটি তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় অবস্থিত, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী এখনও ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, গিভিলির মরদেহ উদ্ধার ও ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শেষ হলে গাজা ও মিসরের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পারাপার পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। মরদেহ উদ্ধারের পর নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—আমি নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—সবাইকে ফিরিয়ে আনার। একেবারে শেষ বন্দি পর্যন্ত আমরা সবাইকে ফিরিয়ে এনেছি।’

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের ফলেই মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে এবং এটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির সব শর্ত পালনে হামাসের প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ।

ইসরায়েলে গিভিলির বাবা ইৎজিক গিভিলি কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগঘন বিদায়ে বলেন, ‘তুমি চাইলে ঘরে থাকতে পারতে। কিন্তু তুমি বলেছিলে, বাবা, আমি বন্ধুদের একা লড়াই করতে ছেড়ে যাব না। আজ দেখো, কত সম্মান নিয়ে সবাই তোমাকে ঘিরে আছে। পুরো পুলিশ, পুরো সেনাবাহিনী, পুরো জাতি আজ তোমার সঙ্গে। আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।’

গিভিলির বোন শিরা গিভিলি জানান, তিনি একদিকে গভীর স্বস্তি অনুভব করছেন, আবার অন্যদিকে দুঃখও আছে। তার ভাষায়, ভাইয়ের ফেরাটা এমনভাবে হবে তিনি চাননি, তবে কোনো না কোনোভাবে এই অধ্যায়ের শেষ হওয়া দরকার ছিল।

৮৪৩ দিন পর এই উদ্ধার ইসরায়েলের জিম্মি সংকটের ইতি টানল। একই সঙ্গে গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতির পথও উন্মুক্ত হলো। গিভিলির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত পরবর্তী ধাপে যেতে অনাগ্রহী ছিল ইসরায়েল।

পরবর্তী ধাপে গাজা পুনর্গঠন, সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর অস্ত্র সমর্পণ, একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে অপহৃত ২৫০ জনের একজন ছিলেন রান গিভিলি। গত শুক্রবারও তার পরিবার তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে সাপ্তাহিক সমাবেশে অংশ নেয়। সোমবার নেতানিয়াহু স্মরণ করে বলেন, তিনি সেদিন পরিবারকে চোখে চোখ রেখে বলেছিলেন, ‘আমরা রানিকে ঘরে ফিরিয়ে আনব।’