কুমিল্লাশনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরান যুদ্ধে নতুন মাত্রা: ইসরায়েলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ২৮, ২০২৬ ৩:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর এটাই তাদের প্রথম সরাসরি হামলা।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি শনিবার বিদ্রোহীদের আল-মাসিরাহ স্যাটেলাইট টেলিভিশনে এই হামলার ঘোষণা দেন।

আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর আগের ঘোষণায় যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রতিরোধের সব ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত থাকবে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই সারি শুক্রবার এক অস্পষ্ট বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলা এই যুদ্ধে হুতিরাও যুক্ত হতে যাচ্ছে। তার ওই ঘোষণা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

তিনি জানান, বিদ্রোহীরা দক্ষিণ ইসরায়েলের ‘সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো ইসরায়েলের বিয়ার শেবা শহর ও দেশটির প্রধান পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রের আশপাশে সাইরেন বেজে ওঠে। ইরান ও হিজবুল্লাহ রাতভর ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে।

হুতিরা ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং এতদিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি।

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ চলাকালে হুতিদের জাহাজে হামলার কারণে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যে পথ দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য পরিবহন হতো।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হুতি বিদ্রোহীরা ১০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, এতে দুটি জাহাজ ডুবে যায় এবং চারজন নাবিক নিহত হন।

২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছিল, যা কয়েক সপ্তাহ পর বন্ধ হয়ে যায়

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক, ইরানবিরোধী যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে হুতিদের অংশগ্রহণ ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ একটি ঘটনা।, গত আড়াই বছরে আমরা দেখেছি হুতিদের যথেষ্ট শক্তি রয়েছে। তারা যদি বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং শেষ পর্যন্ত সুয়েজ খাল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যের দুটি বড় ‘চোক পয়েন্ট’ বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, এগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, তাই এই দিক থেকে বিষয়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।, ইরান ও হিজবুল্লাহর পাশাপাশি নতুন একটি ফ্রন্ট খোলায় ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল ও সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি ইসরায়েল এই হামলার জবাব দেবে, যেমনটা আমরা আগেও দেখেছি—গাজা যুদ্ধের সময় ইয়েমেন যখন ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছিল।’

.

সারাদেশ সর্বশেষ