কুমিল্লাশনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানের হামলায় ৩০ কোটি ডলারের মার্কিন মিসাইল রাডার সিস্টেম ধ্বংস

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ৭, ২০২৬ ১২:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মিসাইল রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ব্লুমবার্গের খবরে জানা গেছে, এই রাডার ব্যবস্থা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ক্ষতির ফলে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, “থাড রাডারের ওপর ইরানের হামলাটি তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল হামলাগুলোর মধ্যে একটি।” তবে তিনি সতর্ক করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং তাদের অংশীদারদের কাছে আরও রাডার ব্যবস্থা রয়েছে, যা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কভারেজ অব্যাহত রাখতে পারবে।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা থাড রাডার ও সহায়ক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। পরে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার খবর পাওয়া গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ। প্রথমে উভয় হামলাকে প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানানো হলেও পরে রাডার ধ্বংসের খবর প্রকাশ হয়।

থাড ইউনিটগুলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির তুলনায় আরও জটিল হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। কিন্তু এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার অচল হওয়ায় এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দায়িত্ব প্রধানত প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এর মধ্যে এই রাডার ধ্বংস সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে অন্যতম।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন শুক্রবার (৬ মার্চ) জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানে সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা কিছু মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে মোতায়েন করা হতে পারে। এ বিষয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাডার ধ্বংস হওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়লেও তাদের অন্যান্য প্রতিরক্ষা সিস্টেম ক্ষতির প্রভাব কিছুটা কমিয়ে দিতে পারবে। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে এবং সামরিক কৌশল পুনঃমূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে।

.