কুমিল্লাসোমবার, ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানকে হামলা না চালাতে বলেছে সৌদি আরব, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ৮, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সৌদি আরব তেহরানকে বলেছে, তারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও নিজেদের ভূখণ্ড ও জ্বালানি খাতে হামলা অব্যাহত থাকলে রিয়াদ জবাব দিতে বাধ্য হতে পারে।

এ বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত চারটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানকে দেওয়া সৌদি আরবের এ বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

শনিবার ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তেহরানের হামলায় প্রতিবেশী দেশগুলোর হওয়া ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখপ্রকাশ করে যে বক্তৃতা দিয়েছেন তার আগেই রিয়াদের এ বার্তা যায়। বেসামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলাকে ঘিরে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে যে ক্ষোভ বিরাজ করছে তা প্রশমিত করতেই পেজেশকিয়ান দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তার দুইদিন আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলে রিয়াদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বলেছে সূত্রগুলো।

উত্তেজনা প্রশমন ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে যে কোনো ধরনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব রাজি বলে ফয়সাল আরাগচিকে জানান। রিয়াদ তো বটেই উপসাগরের অন্য কোনো দেশও ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশ বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, বলেন তিনি।

তবে সৌদি ভূখণ্ড বা জ্বালানি অবকাঠামোতে যদি নিয়মিত ইরানি হামলা হতে থাকে তাহলে রিয়াদও যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদি আরবে থাকা তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দিতে বাধ্য হবে, বলেছেন তিনি। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে রিয়াদও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে, ভাষ্য ফয়সালের।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে সামরিক অভিযানে নামার পর থেকেই সৌদি আরব তার রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

এসব বিষয়ে রয়টার্স সৌদি ও ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য চাইলেও তারা সাড়া দেয়নি।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও সৌদি আরব ইরান থেকে ছোড়া একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সামলাতে ব্যতিব্যস্ত।

যুদ্ধের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মেরে ফেলে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টায় তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করে। পরে ইসরায়েল লেবাননে ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহ-র বিরুদ্ধেও হামলায় নামে।

আরাগচি শনিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সৌদি আরব যে তাদের ভূখণ্ড, জলসীমা ও আকাশপথ ব্যবহার করতে দেবে না, রিয়াদ তেহরানকে সে বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে পেজেশকিয়ান বলেছেন, কাছাকাছি দেশগুলো থেকে ইরানে হামলা না হলে সেসব দেশে পাল্টা হামলা স্থগিতের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ইরানের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ।

“ইরানের পদক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি আমি,” বলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।

তার এ মন্তব্যের পর ইরানের প্রতিক্রিয়ার ধরনে কী বদল আসছে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি। পেজেশকিয়ানের ঘোষণার পরও শনিবার উপসাগরের একাধিক দেশে ইরানি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারস এক বিবৃতিতে জানায়, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা তাদের নিশানায় থাকছেই।

তারা জানায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থকে সম্মান করে এবং এজন্য এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলো, অঞ্চলজুড়ে মাটিতে, সমুদ্রে বা আকাশে থাকা তাদের সম্পদকে ‘মূল নিশানা’ গণ্য করা হবে এবং সেগুলোকে ইরানি বাহিনীগুলোর ‘শক্তিশালী ও প্রবল’ আঘাতের মুখোমুখি হতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ইরান তার মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ‘ক্ষমা চেয়েছে ও আত্মসমর্পণ করেছে, অঙ্গীকার করেছে তাদের দিকে আর কিছু ছুড়বে না। এই অঙ্গীকার এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা হামলার কারণেই।”

সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুটি ইরানি সূত্র। ওই ফোনে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার ব্যাপারে রিয়াদ যে তেহরানকে সতর্ক করেছে তাও জানিয়েছে তারা।

এর প্রত্যুত্তরে ইরান তাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য উপসাগরীয় দেশগুলো নয়, সেসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা।

সৌদি আরবের অবস্থানের পাল্টায় তেহরানও অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ এবং উপসাগরের কিছু দেশ যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করে তার ইতি টানার দাবি জানিয়েছে, বলেছে এক ইরানি সূত্র।

আরেক ইরানি সূত্র জানিয়েছে, তাদের অনেক সামরিক কমান্ডারই যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে অভিযোগ করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখতে চাপ দিচ্ছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তার একসময়কার প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ছোড়া অসংখ্য ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনেকটাই ভেস্তে দিয়েছে।