কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আন্দোলনকারীদের কেন পেটাননি, জানালেন সেই পুলিশ সদস্য

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫ ৫:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ সচিবালয়ের সামনে ইদানীং প্রায়ই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়। স্বাভাবিকভাবে, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তবে সম্প্রতি এক পুলিশ সদস্য লাঠিপেটা না করে বরং লাঠিপেটার অভিনয় করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দেখা গেছে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রিয়াদ হোসেন নামের ওই পুলিশ সদস্য প্রশংসায় ভাসছেন। এবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন।

রিয়াদ হোসেন বলেন, “আমি ডেমরা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত আছি। কখন কোন আন্দোলন হবে, তা আমরা আগে থেকে জানি না। ঘটনার দিন দুপুর নাগাদ একদল আন্দোলনকারী সচিবালয়ের গেটের দিকে আসতে থাকে এবং সচিবালয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় তাদের বাধা দেওয়া হয়। আমাদের সিনিয়র অফিসাররা তাদের বোঝান যে, সচিবালয় একটি সংরক্ষিত এলাকা এবং সেখানে প্রবেশ নিষেধ। আমরা তাদের শান্তভাবে বোঝানোর চেষ্টা করি যাতে তারা সচিবালয়ে প্রবেশ না করে।”

তিনি আরও বলেন, “সিনিয়র অফিসারদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা যথাসম্ভব কম বলপ্রয়োগের চেষ্টা করি, যাতে কারও ক্ষতি না হয়। আমি রাস্তায় লাঠি দিয়ে পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আঘাত করে শব্দ তৈরি করি এবং আন্দোলনকারীদের ভয় দেখিয়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করি।”

পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশে এমনটি করেছেন বলে জানান রিয়াদ হোসেন। তিনি বলেন, “সিনিয়র অফিসাররা আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আন্দোলনকারীদের বেশি ক্ষতি না করা হয়। শুধু ভয় দেখিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।”

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান রিয়াদ হোসেন। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ আমাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেখানে শেখানো হয়েছে, যথাসম্ভব কম বলপ্রয়োগ করে এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে হবে। আন্দোলনকারীরাও আমাদের ভাই, তাদের কম বলপ্রয়োগ করে এবং আঘাত না করে শান্তিপূর্ণভাবে ছত্রভঙ্গ করা আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় চেইন অব কমান্ড মেনে চলে। আমার সিনিয়র অফিসাররা যেভাবে নির্দেশ দেন, আমি সেভাবেই কাজ করি। এটা আমি নিজের জন্য করিনি, বরং পেশাদারিত্বের জন্য করেছি। আমি আমার পুরো পুলিশ বিভাগ এবং পোশাকের জন্য এই কাজ করেছি, যাতে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন থাকে। আমি চাই জনগণের মনে বাংলাদেশ পুলিশের ইমেজ যেন ভালো থাকে। পুলিশ যেন সব সময় জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করে।”

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন বলে জানান রিয়াদ হোসেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা-মা অনলাইনের সঙ্গে ততটা সংযুক্ত নন, তাই তারা বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। তবে আশেপাশের লোকজন, পাড়া-প্রতিবেশী এবং আত্মীয়রা আমার মাকে ফোন করে বলেছে, ‘কেন মারামারি করতে গেলি?’ তবে পরে সবাই আমাকে ভালো কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার জন্য সবাই আমাকে উৎসাহ দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বন্ধু-বান্ধবরা বিভিন্ন পোস্টে আমাকে মেনশন করেছে। জনগণের প্রতিক্রিয়াও খুব ইতিবাচক ছিল। অনেকেই আমাকে ‘আদর্শ মায়ের সন্তান’ বলে প্রশংসা করেছেন। আমার মা সব সময় আমাকে বলে, ‘কাউকে আঘাত করো না বা কারও বিরুদ্ধে মারমুখী হয়ো না।’ আমি চেষ্টা করি তার কথামতো চলতে।”