কুমিল্লাবুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগামী ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে সরকারকে সহায়তা করবো: সেনাপ্রধান

প্রতিবেদক
Cumilla Press
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৪ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করে যেন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

বিরল এই সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান জানান, শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের পাশে থেকে তার মিশন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবেন।

বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের অগ্রদূত ড. ইউনূস বাংলাদেশে বিচার বিভাগ, পুলিশ, এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ওয়াকার-উজ-জামান সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনার পদত্যাগের কয়েক সপ্তাহ পর। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের জন্য এক থেকে দেড় বছর সময় প্রয়োজন।

বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো—আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয়েই আগামী তিন মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সেনাপ্রধান জানান, তিনি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তার বিশ্বাস, একসঙ্গে কাজ করলে তারা সফল হবেন।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা এখন অনেকটাই শান্ত, তবে সরকার পতনের পর প্রশাসনের কিছু অংশ এখনও সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি।

ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, সামরিক বাহিনীকে কখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। একজন পেশাদার সৈনিক হিসেবে তিনি তার বাহিনীকে পেশাদার রাখতে চান।

তিনি স্বীকার করেন যে, কিছু সামরিক কর্মকর্তা আইন বহির্ভূত কাজ করেছেন, এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেনাপ্রধান মনে করেন, সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা সম্ভব যদি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকে এবং সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রপতির অধীনে থাকে।